শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২০, ০৫:১১ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
বগুড়ায় শিবগঞ্জে দেড় কেজি গাঁ’জাসহ মা’দক ব্যবসায়ী গ্রে’প্তার। বিয়ের ২২ মাসেও স্পর্শ করতে দেয়নি স্ত্রী, স্বা’মীর আত্মহ’ত্যা নিজের কি’শোরী মে’য়েকে ধ’র্ষণ, বিচারের দাবিতে এলাকাবাসীর মা’নববন্ধ’ন শাহজালাল মাজারে জ’ঙ্গি হা’মলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল তারা! এবার ক্যানসার আ’ক্রান্ত হয়েছেন শ’ক্তিমান অভিনেতা সঞ্জয় দত্ত ওসি প্রদীপকে পরামর্শক দিয়ে অনুতপ্ত আল্লাহ বকশ স্বা’মীকে শা’স্তি দিলেন সানি লিওন, ভাইরাল ভিডিও শ্বশুর বাড়িতে পৌঁছে দেয়ার কথা বলে গার্মেন্টকর্মীকে গণধ’র্ষণ মুখোমুখি প্রদীপ-লিয়াকত: একে অন্যকে দোষ দিয়ে ঘ’টনার বর্ণনা দিলেন তারা ধ’র্ষণ চেষ্টায় শি’শুর চি’ৎকার, শাশুড়ির কাছে ধরা জামাতা!
ক্যা’ন্সারে প্রেমিকা হার মানলেও হারে’নি ৯ বছরের ভালোবাসা

ক্যা’ন্সারে প্রেমিকা হার মানলেও হারে’নি ৯ বছরের ভালোবাসা

যেমন নকশিকাঁথার মাঠে সাজু-রূপাইয়ের প্রেম গাঁথা; যেমন রোমিও-জুলিয়েট, লায়লা-মজনুর প্রেমকাহিনি। এটাও তেমনই এক ভালবাসার গল্প। যে গল্পে স্কুলের গন্ডি না পেরতেই ক্যা’ন্সারে আক্রা’ন্ত হন মেয়েটি।

সেই রো’গের কাছে হেরে গিয়েও এ গল্প বীথি আর সুব্রতর হার না মানার জীবন কাহিনি। শেষ পর্যন্ত প্রেমিকার পাশে থেকে, তার শেষ ইচ্ছেকে মর্যাদা দিয়ে বীথির সিঁথিতে সিঁদুর দিলেন সুব্রত। তার পর, সব শেষ…।

গত ৩ অগস্ট ভারতের শিলিগুড়ির একটি নার্সিং হোমে শেষ নিঃশ্বা’স ত্যা’গ করেন বীথি। কিন্তু এখনও এ ‘গল্প হলেও সত্যি’ ঘ’টনাটি আপ্লুত করে রেখেছে দুই পরিবারকে। মা’রণ

কর্কট রো’গে আক্রা’ন্ত বীথির স’ঙ্গে যেভাবে গত ৯ বছর ধ’রে আঁকড়ে ছিলেন সুব্রত, তা কিছুটা হলেও অ’বাকই করেছে দুই পরিবারকে। এ কয় বছরে তাকে সু’স্থ ক’রতে পরিবারের

স’ঙ্গে সুব্রতও ছুটেছেন, কখনও মুম্বাইয়ে, কখনও বেঙ্গালুরুতে, কখনও বা শিলিগুড়িতে পরিবারিক সূত্রে বলা হচ্ছে, বীথির ইচ্ছে ছিল সুব্রতকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পাওয়ার।

সে জন্য সেই দুপুরেই দুই পরিবারের উপ’স্থিতিতে শেষ ইচ্ছে পূরণ করেন সুব্রত। উত্তর দিনাজপুরের টুঙ্গিদিঘির বাসিন্দা সুব্রত কুণ্ডু। বাবা শ’ক্তিপদ কুণ্ডুর চালের ব্যবসা।

দুই ভাইও বাবার ব্যবসা দেখছেন। সুব্রত একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করেন। টুঙ্গিদিঘি হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক পাস করে উচ্চ মাধ্যমিক পড়তে শিলিগুড়ি আসেন তিনি।

বয়েজ হাই স্কুলে পড়ার সময় ব’ন্ধুদের মাধ্যমে আলাপ হয় শিলিগুড়ি নেতাজি গার্লস স্কুলের ছাত্রী বীথি দাসের স’ঙ্গে । ২০০৯ সাল থেকে স’স্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয়। বিপত্তি ঘ’টে দু’বছর পর। ২০১১ সালে বীথি তখন উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার প্র’স্তুতি নিচ্ছে। টেস্টের ফল প্র’কাশিত হয়েছে। ডান হাতের কব্জিতে একটি টিউমা’র থেকে বীথি অসু’স্থ হয়ে পড়েন। শিলিগুড়িতে অ’স্ত্রোপ’চার করে তা বাদও দেয়া হয়। তবে বায়োপসি রিপোর্টে ধ’রা পড়ে, টিউমা’রটি ম্যালিগন্যান্ট। সেই থেকে লড়াই শুরু।

চিকিৎ’সার জন্য এক বছর মুম্বাইয়ে থাকতে হয় বীথিকে। সেই থেকে সুব্রত কখনও মুম্বই, কখনও শিলিগুড়ি করে চলেছেন। বীথির বাবা কালীপদ দাস রেলের লোকো-পাইলট ছিলেন। মেয়ের চিকিৎ’সার জন্য তিনি স্বেচ্ছাবসর নেন।

সুব্রতর কথায়, কেমো থেরাপির পর ২০১২ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বীথি সু’স্থ ছিলেন। এরপর রো’গ ছড়াতে শুরু করে অন্যত্র। ফের রেডিয়োথেরাপি চালানোর পর আবার তিন বছর সু’স্থ ছিলেন। ফের কব্জি এবং কনুইয়ের কাছে একই উ’পসর্গ। চিকি’ৎসক হাত কে’টে বাদ দিতে বললেন। তাই করা হলো। ২০১৮ সালের অক্টোবরে চিকি’ৎসক বললেন, আর ভ’য় নেই। বা’ধা নেই বিয়েতেও।

সুব্রত জা’নালেন, সেই শান্তি বেশি দিন রইল না। ফু’সফুসে সংক্র’মণ ধ’রা পড়ল গত মা’র্চে। এরপর চার বার নার্সিং হোমে ভর্তি করানো হয়।কিছুটা ক্লান্ত স্বরেই তিনি বললেন, ‘এবার আর বীথিকে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারলাম না।’

আপনার বন্ধুদের সাথে এই পোস্ট টি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বশেষ সংবাদ

সাম্প্রতিক মন্তব্য

    © All rights reserved © 2018 worldinbangladesh.com