বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ১১:২৮ পূর্বাহ্ন

জেনে নিন ধনীরা কেন বেশি আ’ক্রান্ত হচ্ছে ক’রোনায় !

জেনে নিন ধনীরা কেন বেশি আ’ক্রান্ত হচ্ছে ক’রোনায় !

বাংলাদেশে ক’রোনা ম’হামা’রি ছড়িয়ে পড়েছে। এখন শুধু ঢাকার মধ্যেই সং’ক্র’মণ সীমাবদ্ধ নেই, চট্টগ্রামসহ সারাদেশেই ক’রোনা ছড়িয়ে পড়েছে। লক্ষণীয় ব্যাপার যে, ক’রোনার যে সং’ক্র’মণ হচ্ছে তা গরীব মানুষের চেয়ে ধনীদের মধ্যে বেশি দেখা যাচ্ছে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে যে, এখন পর্যন্ত যে ৩২ হাজারের বেশি মানুষের ক’রোনা শনাক্ত হয়েছে, তাঁর মধ্যে উচ্চবিত্ত, উচ্চ মধ্যবিত্তদের সংখ্যাই বেশি। কারণ ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি বড় শিল্পগ্রুপ এবং বড় প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা ক’রোনায় আ’ক্রান্ত হয়েছেন।

এস আলম গ্রুপের পরিচালক মোরশেদুল ইসলাম ক’রোনায় আ’ক্রান্ত হয়ে মৃ’ত্যুবরণ করেছেন। এছাড়াও আ’ক্রান্ত হয়েছে এই গ্রুপের শীর্ষ কয়েকজন কর্মকর্তা। ক’রোনায় আ’ক্রান্ত হয়েছেন হা-মিম গ্রুপের এ কে আজাদ। এছাড়াও এপেক্স গ্রুপের নজরুল এলাহীর স্ত্রী সহ ক’রোনায় আ’ক্রান্ত হয়েছেন। এই প্রেক্ষিতেই প্রশ্ন উঠেছে যে, বাংলাদেশে ধনীরা কেন বেশি আ’ক্রান্ত হচ্ছেন? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে কয়েকটি বড় কারণ খুঁজে পাওয়া গেছে-

১. ব্যবসায়িক কারণে ঘরের বাইরে যাওয়া

ধনীরা তাঁদের ব্যবসায়িক কারণে ঘরের বাইরে বেশি বের হচ্ছেন, ঘরব’ন্দি থাকার নি’ষেধাজ্ঞা কম মানছেন। বিভিন্ন কাজে অফিসে যাচ্ছেন বা বিভিন্ন লোকজনের সাথে বৈঠক করছেন। এর ফলে তাঁদের মধ্যে সং’ক্র’মণ ছড়িয়ে পড়ছে।

২. ধনীরা দুশ্চিন্তা বেশি করেন

ধনীদের বিত্ত বেশি, তাঁরা আয় রোজগার নিয়ে নানারকম দুশ্চিন্তা সবসময় করতে থাকেন। যারা ক’রোনায় আ’ক্রান্ত হয়েছেন তাঁদের প্রায় সবাইকেই দেখা গেছে যে, ক’রোনার শুরুতেই হা-হুতাশ করতে, অর্থনৈতিক গতিপ্রকৃতি কিভাবে চলবে তা নিয়ে কথা বলতে। ক’রোনা প্রতিরোধের একটি বড় উপায় হলো মা’নসিক দৃঢ়তা। যখন মানুষ সারাদিন টেনশন করবেন, তখন তাঁর মা’নসিক অস্থিরতা সৃষ্টি হবে এবং এর ফলে রো’গ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাবে।

৩. বাংলাদেশে ধনীদের চিকিৎসা নিতে অনীহা

আমাদের ধনীরা বাংলাদেশে চিকিৎসা নিতে মোটেই আগ্রহী নন। তাঁদের সর্দি-কাশি হলেও তাঁরা আগে সিঙ্গাপুর, ব্যাংককে চলে যেতেন। দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রতি তাঁদের তীব্র অনাস্থা ছিল। কিন্তু এখন ক’রোনা স’ঙ্কটের সময় তাঁরা দেশেই ব’ন্দি হয়ে আছেন। চাইলেও বিদেশে যাবার উপায় নেই, চাইলেই বিদেশ থেকে মেডিসিন আনার উপায় নেই। দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রতি অনাস্থা থেকে এক প্রকার দুশ্চিন্তা, আ’তঙ্ক তৈরি হচ্ছে। যা ক’রোনাকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে।

৪. রো’গ-প্রতিরোধ ক্ষমতা কম

আমরা সাধারণ দেখি যে, ধনীরা শরীর ঠিক রাখতে খাদ্যের ব্যাপারে অনেক সংযম ব্রত পালন করেন, তাঁরা স্বল্পাহারী হন, কম খান, কম খেয়ে সুস্থ থাকতে চান। তবে এর ফলে তাঁদের যে রো’গ প্রতিরোধ ব্যবস্থা তা কমে যায় এবং যেকোন রো’গেই তাঁরা সহজেই আ’ক্রান্ত হন। ক’রোনায় যেহেতু বাংলাদেশে কোন মেডিসিন আবি’ষ্কার হয়নি, যেহেতু উল্লেখ্য করার মতো কোন চিকিৎসা নেই, এ কারণে ধনীরা সহজেই ক’রোনায় আ’ক্রান্ত হচ্ছেন।

৫. সং’ক্র’মণ ছড়াচ্ছে ধনীদের মধ্যে

ক’রোনায় যেহেতু ধনীদের মধ্যে সং’ক্র’মণ বেশি, কাজেই একজন ধনী আরেকজন ধনীর সঙ্গে যখন মেলামেশা করছেন, অফিস-আ’দালতে যাচ্ছেন, তখন তাঁরা একে অন্যকে সংক্রমিত করছেন। আর একারণেই এখন পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে যে, ক’রোনা সং’ক্র’মণ গরীবদের থেকে ধনীদের মাঝে বেশি হচ্ছে।

তবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা এটার পেছনে কোন বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা বা কারণ খুঁজতে চান না। তাঁরা মনে করেন যে, ক’রোনা কোন ধনী-দরিদ্র ব্যবধান মানে না। এটা নিছকই কাকতালীয়। তাঁরা স্বাস্থ্যবিধিগুলো মানেননি, শিষ্টাচার পালন করেননি বা অন্য যেকোন কারণে সংক্রমিত হয়েছেন। যেকারণে এর মানে এই না যে, একই কাজ করলে গরীবরা সংক্রমিত হবে না। তবে একজন বিশেষজ্ঞ বলেছেন যে, বস্তি এলাকাগুলো দরিদ্র এলাকাগুলোতে ক’রোনার প্রভাব কম কেন সেটা নিয়ে উপযুক্ত কর্তিপক্ষ নিশ্চয়ই গবেষণা করতে পারেন।

আপনার বন্ধুদের সাথে এই পোস্ট টি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক মন্তব্য

    © All rights reserved © 2018 worldinbangladesh.com