শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২০, ০৪:০০ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
বগুড়ায় শিবগঞ্জে দেড় কেজি গাঁ’জাসহ মা’দক ব্যবসায়ী গ্রে’প্তার। বিয়ের ২২ মাসেও স্পর্শ করতে দেয়নি স্ত্রী, স্বা’মীর আত্মহ’ত্যা নিজের কি’শোরী মে’য়েকে ধ’র্ষণ, বিচারের দাবিতে এলাকাবাসীর মা’নববন্ধ’ন শাহজালাল মাজারে জ’ঙ্গি হা’মলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল তারা! এবার ক্যানসার আ’ক্রান্ত হয়েছেন শ’ক্তিমান অভিনেতা সঞ্জয় দত্ত ওসি প্রদীপকে পরামর্শক দিয়ে অনুতপ্ত আল্লাহ বকশ স্বা’মীকে শা’স্তি দিলেন সানি লিওন, ভাইরাল ভিডিও শ্বশুর বাড়িতে পৌঁছে দেয়ার কথা বলে গার্মেন্টকর্মীকে গণধ’র্ষণ মুখোমুখি প্রদীপ-লিয়াকত: একে অন্যকে দোষ দিয়ে ঘ’টনার বর্ণনা দিলেন তারা ধ’র্ষণ চেষ্টায় শি’শুর চি’ৎকার, শাশুড়ির কাছে ধরা জামাতা!
আমার স্ত্রী দশ বছর আমাকে ধ’র্ষণ করেছে, জানালেন স্বামী

আমার স্ত্রী দশ বছর আমাকে ধ’র্ষণ করেছে, জানালেন স্বামী

পারিবারিক সহিং’সতার যেসব ঘটনার অভিযোগ কর্তৃপক্ষের কাছে আসে তার সিংহভাগের ক্ষেত্রে নি’র্যাতিত নারীটি এসব ঘটনা প্রকাশ করেন। জাতিসংঘের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পৃথিবীর নারীদের এক তৃতীয়াংশ তাদের জীবনে শা’রীরিক বা যৌ’ন সহিং’সতার শি’কার হয়। সেই তুলনায় পরিবারের পুরুষ সদস্যের ও’পর সহিং’সতার বি’ষয়টি যেমন অনেক কম আলোচনায় আসে, তেমনি এ ধরণের ঘটনা খুব বেশি ঘটেও না।

অনেক সমাজেই পুরুষদের জন্য পারিবারিক সহিং’সতার বি’ষয়টি নিয়ে আলোচনা করার চল নেই, এবং অনেকক্ষেত্রে ভু’ক্তভোগীদের একাই লড়াইটা চালিয়ে যেতে হয়। পরিচয় গো’পন রাখার শর্তে ইউক্রেনের এক তরুণ বিবিসি’র কাছে তার জীবনের ঘটনা বলেন। তার জবানিতেই তার সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনার বর্ণনা তুলে ধরা হলো এখানে।

তার ভাষ্য মতে, আমাদের কোনো আর্থিক সমস্যাও ছিল না। এর মধ্যে পৃথিবীর অনেকগুলো দেশও ঘুরে আসি আমরা দু’জন। আমরা যখন অন্য কোথাও ভ্রমণ করতাম, তখন তাকে ভয় পেতাম না। সে মানুষের সামনে আমাকে নি’র্যাতন করে না।

তবে ও যেন আমাকে একা না পায়, সেই বি’ষয়টা নিশ্চিত করা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। মাত্র কিছুদিন আগে আমি বুঝতে পারি যে, আমার সাবেক স্ত্রী দশ বছর ধরে আমাকে ধ’র্ষণ করছে। ইরা আমার জীবনের প্রথম নারী ছিল। ইরার সাথে শুরুর দিকে যখন যৌ’নমিলন হতো, সেসময় আমার আগ্রহ ছিল যৌ’নসঙ্গমের। কিন্তু স্বেচ্ছায় হলেও আমাদের যৌ’নমিলন ঠিক স্বাভাবিক ছিল না। তা ছিল ক’ষ্টকর এবং আগ্রাসী।

প্রথমবার যখন আমরা মিলিত হই, সেটি পাঁচ ঘণ্টা স্থায়ী ছিল এবং শেষ হওয়ার পর আমার সারা শরীর ব্যাথা করছিল। তার একটা বাতিক ছিল যে যৌ’নসঙ্গমের শেষে আমার বীর্যপাত করতেই হবে। বীর্যপাত না হওয়া পর্যন্ত আমি সঙ্গম চালিয়ে যেতে হতো এবং গড়ে তা এক থেকে দুই ঘণ্টা স্থায়ী হতো। সে’ক্স উপভোগ্য হওয়ার কথা, কিন্তু আমার জন্য বি’ষয়টি সেরকম ছিল না। আমার কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল না এবং আমি ভাবতাম এটাই স্বাভাবিক, আর তাই যৌ’নমিলনে রাজী হতাম।

কিন্তু কিছুদিন পরই আমি যখন তাকে ‘না’ বলা শুরু করলাম, তখনই আমি ধর্ষিত হওয়া শুরু করি। একবার ব্যবসার কাজে আমার দীর্ঘদিনের জন্য বিদেশ যেতে হয়। আমার ভয় হয় যে কাজ শেষে দেশে ফিরে আমি হয়তো ইরাকে আর ফিরে পাবো না। তাই আমি তাকে আমার সাথে যাওয়ার প্রস্তাব দেই। এমনকি সফরে যাওয়ার আগে তাকে বিয়ে করার প্রস্তাবও দেই আমি।

সে বিয়ে না করলেও আমার সাথে সফরে যেতে রাজি হয়। আর সেখান থেকেই শুরু হয় মূল ঘটনা। সারাদিন কাজ শেষে আমি পরিশ্রান্ত থাকতাম, আর সে যৌ’নমিলন করতে চাইতো। প্রথমে কয়েকদিন রাজি হলেও পরে আমি যখন রাজি হতাম না, সে তখন বলতো, “এটা আমার চাহিদা, সুতরাং তোমার আমাকে দিতেই হবে। আমি বহুক্ষণ ধরে অপেক্ষা করছি।”

তখন আমি বলতাম, “আমি ক্লান্ত। আমি বিশ্রাম নিতে চাই।” তখন সে আমাকে আ’ক্রমণ করতো। নখ দিয়ে আমাকে আ’ঘাত করতে থাকতো যতক্ষণ না পর্যন্ত আমি র’ক্তাক্ত হতাম। সে কখনও আমার মুখে আ’ঘাত করতো না। এমন জায়গায় করতো যা পোশাকের নীচে থাকবে: যেমন বুকে, পিঠে বা হাতে। আমি কখনও প্র’তিবাদ করতাম না কারণ আমি মনে করতাম একজন নারীকে আ’ঘাত করা ঠিক কাজ নয়।

আমি হীনমন্যতায় ভুগছিলাম এবং নিজেকে ক্ষুদ্র মনে হচ্ছিল। হোটেলে একবার নিজের জন্য আলাদা রুমও নিতে চেয়েছিলাম আমি। কিন্তু আমি তাদের ভাষা বুঝতাম না, তাই শেষপর্যন্ত রুম নিতে পারিনি। কাজ শেষে হোটেলে ফিরে যেতে ভয় লাগতো আমার। তাই রুমে ফিরে না গিয়ে বিভিন্ন শপিংমলে ঘুরে বেড়াতাম। শপিংমল বন্ধ হওয়ার পর ঘুরতাম শহরের অলিগলিতে।

শরৎকালের ঠান্ডা ও আর্দ্র আবহাওয়ায় এরকম ঘোরাঘুরির ফলে আমার ইউরিন ইনফেকশন, প্রোস্টেইটিস ও জ্বর হয়। কিন্তু এসব কিছুই ইরাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। সে যা চাইতো, তা আমার করতে হতো। ইউক্রেনে ফিরে যাওয়ার পর আমি আমার বাবা-মা’র সাথে থাকতে শুরু করি, ইরার সাথে যোগাযোগ করাও বন্ধ করে দেই। কিন্তু তার সাথে বিচ্ছেদের প্রচেষ্টা দীর্ঘায়িত হয় দশ বছর পর্যন্ত।

আমি তার সাথে ঝগড়া করে সবকিছু থেকে তাকে ব্লক করে দিতাম, সে এলে ঘরের দরজা বন্ধ করে রাখতাম। কিন্তু সে বন্ধ দরজার ওপারে বসে আমাকে স্বান্তনা দেয়ার চেষ্টা করতো, বলতো যে সব ঠিক হয়ে যাবে। শুরুর দিকে আমি তার সাথে ছাড়াছাড়ির অনেক চেষ্টা করলেও সময়ের সাথে সাথে আমার চেষ্টাও কমতে শুরু করে। পরে একপর্যায়ে আমি চেষ্টাই ছেড়ে দেই। সে আমাকে বিয়ে করতে চায়, এবং আমরা বিয়ে করিও। যদিও আমার বিয়ে করার কোনো আগ্রহ অবশিষ্ট ছিল না।

ইরা সবার ব্যাপারে ঈর্ষান্বিত ছিল। আমার বন্ধু, পরিবার সবার ব্যাপারে। আমি যেখানেই যেতাম, আমার সবসময় তাকে ফোন করতে থাকতে হতো। আমাকে ছাড়া সে কোথাও যেতে পারতো না – আমি যেন সব জায়গায় তার মনোরঞ্জন করার খেলনা ছিলাম। ইরার কোনো চাকরি ছিল না। আমার আয়েই আমাদের খরচ চলতো। দুই বেডরুমের একটা বড় অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া নেই আমরা।

আমরা ঘুমাতামও ভিন্ন রুমে এবং আমার রুম বন্ধ করার ব্যবস্থা ছিল না। আমি যদি ‘ভু’ল’ কিছু করতাম, তখন সে আমার সাথে চি’ৎকার করতো এবং আমাকে মারতো। প্রায় প্রতিদিনই এরকম ঘটনা ঘটতো। যে কোনো বি’ষয়ে সে আমার দোষ দিতো। আমি সবসময় শুনে এসেছি যে তার কোন ধরণের পুরুষ পছন্দ এবং তার জন্য সেই পুরুষ কী কী করবে। সে যা করতে বলতো, শুধু তার রাগ থেকে বাঁচার জন্য আমি তাই করতাম।

সম্পর্কের শুরুর দিকে সে’ক্স ভালো লাগলেো পরে একটা লম্বা সময় আমার আর সে’ক্স ভালো লাগতো না। কিন্তু শেষ তিন চার বছর সে’ক্সের কথা চিন্তা করলেই আমার প্যানিক অ্যাটাক হতো, আমি আ’তঙ্কিত হয়ে পড়তাম। যখনই ইরা আমার ইচ্ছার বি’রুদ্ধে আমাকে ধরে আমার সাথে যৌ’নমিলনে উদ্যত হতো, তখনই এরকম হতো। আমার মধ্যে যখন আ’তঙ্ক তৈরি হতো, আমি তাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে ঘর থেকে, কখনো বাড়ি থেকে দৌড়ে পালিয়ে যেতাম।

ইরার বিশ্বাস ছিল আমার জন্যই আমাদের যৌ’নজীবনে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। তাই কয়েক বছর পরপর আমাকে সে’ক্সোলজিস্টের কাছে নিয়ে যেতো সে। ডিভোর্সের কিছুদিন আগে থেকে আমি যৌ’ন সহিং’সতার কথা মানুষকে বলা শুরু করি। সেসময় ইন্টারনেটে একটি ওয়েবসাইটে পরিচয় প্রকাশ না করে আমার সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো জানাই আমি একজনকে। সেবারই প্রথম আমি কারো সাথে সেসব ঘটনা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করি। সেখান থেকে আমি সাহস পাই এবং ধীরে ধীরে নি’র্যাতনের বি’রুদ্ধে সোচ্চার হয়ে উঠি।

আমি ও ইরা দু’জনই চিকিৎসকের সাথে একসাথে আলোচনা করতাম। ঐ সময়ই আমি প্রথমবার কোনো চিকিৎসকের সামনে যৌ’ন নি’র্যাতনের অভিযোগ তুলতে সক্ষম হই।
আর সেগুলো বলার পর ইরা ভীষণ ক্ষি’প্ত হয়ে ওঠে। সে বলতে থাকে যে আমার অভিযোগ মিথ্যা। তবে ঐ ঘটনার পরপরই সে ডিভোর্সের পরামর্শ দেয়। আমিও সুযোগ হাতছাড়া করিনি।

একমাস পর যেদিন ডিভোর্সের কাগজ হাতে পাই, সেটি ছিল আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ দিন। ডিভোর্সের পর একদিন আমি চি’ৎকার করে তাকে বলি, “তুমি আমাকে ধ’র্ষণ করছিলে?” সে উত্তর দিয়েছিল, “ধ’র্ষণ করছিলাম? তো কি হয়েছে!!” সেদিন তার কথার উত্তর দিতে পারিনি আমি, এখনও সেই উত্তর জানা নেই। তবে সে অন্তত স্বীকার করেছে অভিযোগ, যদিও এ নিয়ে হাসাহাসিই বেশি করেছে।

আপনার বন্ধুদের সাথে এই পোস্ট টি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বশেষ সংবাদ

সাম্প্রতিক মন্তব্য

    © All rights reserved © 2018 worldinbangladesh.com