শনিবার, ১০ এপ্রিল ২০২১, ০৮:২৯ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
আমার নিজস্ব কোনো থাকার জায়গা নেই, আমার কোনো বাড়ি নেই, এক কাঠা জমিও নেই: সুজন কড়া নজরদারিতে মামুনুল হক, নির্দেশনা পেলেই গ্রে’প্তার! পালাতক মামুনুল হক, মামুনুলকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না স্ত্রী’কে নিয়ে বেড়াতে গিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের হাতে মামুনুল হক অ’বরুদ্ধ এইমাত্র পাওয়াঃ ভক্তদের কা’ন্নার সাগরে ভাসিয়ে কলকাতাকে বিশাল সমস্যায় ফেললেন সাকিব মতিঝিলে মোদিবি’রোধী বি’ক্ষো’ভ, ‘শি’শুবক্তা’ রফিকুল আ’টক অবশেষে আইপিএল বাদ দিয়ে দেশে সিরিজ খেলবেন সাকিব অবশেষে আইপিএল বাদ দিয়ে দেশে সিরিজ খেলবেন সাকিব অধিনায়কের নাম ঘোষণা করলো কলকাতা নাইট রাইডার্স তাসকিন, রুবেলকে বাদ দিয়ে যে পেসার নিয়ে ১ম ওয়ানডের জন্য শক্তিশালী দল ঘোষণা করলো ডোমিঙ্গ
১১৯ বছর ব’য়সেও খালি চোখে নিয়’মিত কোরআন পড়েন জোবেদ আলী!

১১৯ বছর ব’য়সেও খালি চোখে নিয়’মিত কোরআন পড়েন জোবেদ আলী!

১১৯ বছরে পা দিচ্ছেন তিনি। যে বয়সে এসে মানুষ বিছানায় মৃ’ত্যুর প্রহরের অপেক্ষায়। সেই বয়সে তিনি এখনো হেঁটে চলেন। কোন প্রকার ঔষধ খেতে হয় না তাকে। নিয়মিত ফজরের নামাজের পর খালি চোখে কোরআন শরীফ তেলোয়াত করেন।

শতবর্ষী এই মানুষটি এখন কুড়িগ্রামে আলোচনার বি’ষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শুক্রবার (১১ অক্টোবর) মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের স’চিব (সমন্বয় ও সংস্কার) শেখ মুজিবুর রহমান এনডিসি দেখা করলেন শতবর্ষী এই যুবকের সাথে।

এ সময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন জে’লা প্রশাসক মোছা: সুলতানা পারভীন, কুড়িগ্রাম জে’লা পরিষদের প্রধান নির্বাহী আলেয়া খাতুন, জে’লা আওয়ামীলীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আমিনুল ইসলাম মঞ্জু মন্ডল,

জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবু মো. জাকিরুল ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক ড: মোস্তাফিজুর রহমান প্রধান, কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি

অ্যাডভোকেট আহসান হাবীব নীলু প্রমুখ। রাজারহাট উপজে’লা নির্বাহী অফিসার মুহ: রাশেদুল হক প্রধান এই বয়োবৃ’দ্ধকে মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের স’চিবের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন।
এসময় জে’লা প্রশাসক মোছা: সুলতানা পারভীন স’চিবের মাধ্যমে তাকে অর্থসহায়তা ও উপহার সামগ্রী প্রদান করেন। শতবর্ষী জোবেদ আলী জানান, জাতীয় পরিচয়পত্রে তার জন্ম তারিখ ১৯০০ সালের ২৫ অক্টোবর হলেও তার বয়স আরো বেশি হবে। বাড়ী কুড়িগ্রামের রাজারহাট সদর ইউনিয়নের মেকুরটারী তেলীপাড়া গ্রামে।

বাবা মৃ’ত: হাসান আলী।
স্ত্রীর নাম ফয়জুন নেছা (৮৭)। ব্যক্তিগত জীবনে ৩পুত্র ও ৪কন্যার জনক তিনি। আলাপচারিতায় জোবেদ আলী জানান, যুবক বয়স থেকে তিনি নিজস্ব দীঘির মাছ, বাড়ীতে পালিত পশুর মাংস, দুধ, ডিম খেতেন। আবা’দী জমির ধানের ভাত, খাঁটি ঘি, সরিষার তেল, রাসায়নিক ও সার বিহিন শাক-সবজি উৎপাদন করে সেটাই খেতেন।

এই বয়সে ছোট-খাটো সর্দি-জ¦র ছাড়া বড় ধরণের কোন রো’গ-ব্যাধি তার হয়নি। তিনি শতবর্ষ আগে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশুনা করেছেন বলে জানান। স্পষ্ট উচ্চাড়ণে তিনি কোরআন শরীর পড়েন। পত্রিকা ও বইও পড়তে পারেন। রাতে তিনি কুপি জ্বা’লিয়ে কোরআন মজিদ পড়তে তার খুব ভাল লাগে।

তিনি আরো বলেন, কোনদিন ফজরের নামাজ ক্বাজা করি নাই এবং ফজরের নামাজের পর কুরআন তেলোয়াত করি। তাই হয়তো আল্লাহ্ পাক আমাকে সুস্থ রেখেছেন। এজন্য আল্লাহ্র কাছে লাখো শুকরিয়া। এছাড়াও পত্রিকা পড়াই তার এখন প্রধান নে’শা বলে জানান।

কুরআনের ভু’ল ধরতে গিয়ে সূরা ইখলাস পড়েই মু’সলিম

ইরিনা হানদোনো ইন্দোনেশিয়ার সুপরিচিত নও-মু’সলিম। ১৯৮৩ সালে ইসলাম গ্রহণ করেন। বর্তমানে একজন দা‘ঈ বা ইসলাম প্রচারক হিসেবে কাজ করছেন তিনি। নও-মু’সলিমদের জন্য ইরিনা সেন্টার নামে একটি স্কুলও প্রতিষ্ঠা করেছেন এই নারী। ইসলাম গ্রহণ বি’ষয়ে ইউটিউবে প্রচারিত তাঁর একটি আত্মকথার কিছু নির্বাচিত অংশ দেয়া হলো—

আমি ইন্দোনেশিয়ার একটি ধার্মিক খ্রিস্টান পরিবারে বেড়ে উঠি। আমি প্রাচুর্যের ভেতরই বড় হয়েছি। আমার পরিবার ছিল ধনী। তারা আমার শিক্ষা সুনিশ্চিত করতে সব করেছে। তখন সমাজের প্রচলিত ধারণা ছিল, খ্রিস্টানরা দেশের বেশির ভাগ মানুষ থেকে ভিন্ন।

তারা ধনী, শিক্ষিত। সুন্দর সুন্দর জুতা পরে। আর মু’সলিম হওয়ার অর্থ— তারা দরিদ্র, অশিক্ষিত এবং মসজিদের সামনে থেকে তাদের কম দামি স্যান্ডেলও চু’রি হয়ে যায়।

খুব ছোট থেকে আমি ধর্মীয় অনুপ্রেরণা লাভ করি। আমি স্রষ্টার জন্য জীবন উৎসর্গ করার ইচ্ছা পোষণ করতাম। কিশোর বয়সে স্থানীয় চার্চের বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নিতাম।

একজন নান হওয়ার প্রবল স্বপ্ন ছিল আমার। একজন ক্যাথলিক হিসেবে জাগতিক জীবন চার্চে কা’টাতে চাইতাম, যেখানে সবাই ভালো কাজ করে। হাইস্কুল স্তর শেষ করার পর দীক্ষা নিতে একটি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হই।

অবশ্য আমার সিদ্ধান্তে আমার পরিবার বিস্মিত হয়। কারণ পাঁচ ভাই-বোনের ভেতর আমি ছিলাম একমাত্র মেয়ে। তাঁরা আমাকে কখনো চোখের আড়াল হতে দিতেন না। তবে আমার দৃঢ়তা দেখে তাঁরা নমনীয় হন এবং আমার ইচ্ছা পূরণে সম্মতি দেন।

একজন শিক্ষানবিশ নান হিসেবে আমি কাজ শুরু করি। এজন্য আমাকে কোনো বেগ পেতে হয়নি। তবে চার্চের বাইরে বিশেষ প্রশিক্ষণে অংশ নিতে হয়েছিল। সেখানে ধর্ম-দর্শন বোঝার জন্য তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব পড়ানো হয়। আমি এ সময় ইসলাম ধর্মের তাত্ত্বিক আলোচনায় মনোযোগী হলাম। পৃথিবীর সর্ববৃহৎ মু’সলিম জনসংখ্যার দেশে জন্মালেও এটিই ছিল ইসলাম সম্পর্কে আমার প্রথম জ্ঞানার্জন।

চার্চের সেই প্রশিক্ষণে আমি ইসলাম সম্পর্কে কিছু কুসংস্কারের চর্চা দেখতে পাই, যা আমি খ্রিস্টসমাজে আগেও দেখেছিলাম। মু’সলিমরা দরিদ্র, অশিক্ষিত, অসভ্য ইত্যাদি। অবশ্য আমার ২০ বছর বয়সে আমি এসব কুসংস্কার কখনো গ্রহণ করিনি, বরং নিজে বিচার-বিশ্লেষণের চেষ্টা করেছি।

আমি অন্যান্য দেশ সম্পর্কে অধ্যয়ন শুরু করলাম। বিশেষত অমু’সলিম দেশ সম্পর্কে। আমি দেখলাম, ইন্দোনেশিয়ার মতো দারিদ্র্যের শি’কার আরো অনেক দেশ আছে। যেমন— ভারত, চীন, ফিলিপাইন, ইতালি (তখন) এবং দক্ষিণ আমেরিকার অনেক দেশ।

আমি আমার শিক্ষকের কাছে ইসলাম সম্পর্কে পড়ার অনুমতি চাইলাম। তিনি আমাকে অনুমতি দিলেন। আমার অধ্যয়নের উদ্দেশ্য ছিল ইসলামের ত্রুটিবিচ্যুতি ও দুর্বলতা খুঁজে বের করা। আমার মিশন শুরু হলো।

আমি কুরআন নিয়ে বসলাম এবং এমনসব বি’ষয় অনুসন্ধান শুরু করলাম, যা ইসলামের বি’রুদ্ধে ব্যবহার করতে পারব। আমি তখনো জানি না, কোরআন ডান দিক থেকে পড়তে হয়। অন্যান্য বইয়ের মতো বাঁ দিক থেকে পড়তে লাগ’লাম।

প্রথমেই আমার চোখে পড়ল— ‘বলুন! তিনি আল্লাহ। তিনি এক। তিনি অমুখাপেক্ষী। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কারো থেকে জন্ম নেননি। এবং কেউ তাঁর সমকক্ষ নয়।’ (সূরা ইখলাস)

কুরআনের এই সূরা পড়ে মুগ্ধ হলাম। আমার অন্তর সাক্ষ্য দিল আল্লাহ এক। স্রষ্টার কোনো স’ন্তান নেই। তিনি কারো সৃষ্টি নন। কোনো কিছুই তাঁর সমকক্ষ নয়। সূরা ইখলাস পাঠ করার পর একজন যাজকের কাছে স্রষ্টায় বিশ্বাসের মূলকথা কী জানতে চাইলাম।

তাঁকে বললাম, আমি বুঝছি না একজন ঈশ্বর একই সময়ে একজন ও তিনজন কিভাবে হয়? তিনি বললেন, স্রষ্টা মূলত একজন। তবে তাঁর তিনটি প্রকাশ বা ব্যক্তিত্ব রয়েছে। ঈশ্বর যিনি পিতা, ঈশ্বর যিনি পুত্র, ঈশ্বর যিনি পবিত্র আত্মা। এটিকেই ত্রিত্ববাদ বলা হয়। তাঁর ব্যাখ্যা আমি গ্রহণ করলাম। কিন্তু রাতে সূরা ইখলাসের বক্তব্যগুলো আমার চিন্তায় উঁকি দিতে থাকে— স্রষ্টা একজন। তিনি কারো জাতক নন। কেউ তাঁর স’ন্তান নয়।

পরদিন সকালে আমি আবারও আমার শিক্ষকের কাছে গেলাম। তাঁকে বললাম, ত্রিত্ববাদের ধারণাটি আমার বুঝে আসছে না। তিনি আমাকে একটি বোর্ডের কাছে নিয়ে গেলেন। সেখানে একটি ত্রিভুজ এঁকে বললেন, এখানে ত্রিভুজ একটি। কিন্তু তার দিক বা বাহু তিনটি। ত্রিত্ববাদের ধারণাটিও ঠিক তেমন।

তাঁর বক্তব্যের পর আমি বললাম, তাহলে তো এটিও সম্ভব আমাদের প্রভুর চারটি দিক বা বাহু থাকবে। তিনি বললেন, তা সম্ভব নয়। আমি জানতে চাইলাম কেন? তিনি অধৈর্য হলেন। বারবার বলতে লাগলেন, সেটি সম্ভব নয়। অন্যদিকে আমি প্রশ্ন করেই গেলাম।

এক পর্যায়ে তিনি বললেন, ত্রিত্ববাদের এই ধারণা আমি গ্রহণ করেছি। তবে তা আমার বুঝে আসে না। তুমিও এটি মেনে নাও, হজম করো। বি’ষয়টিকে প্রশ্নবিদ্ধ করা পাপ। কিন্তু আমি হজম করতে পারলাম না।

রাতে আবারও কোরআনের কাছে ফিরে এলাম। সুরা ইখলাস পাঠ করলাম, যেন কিছু আমার অন্তরে প্রবেশ করল। আমার কোনো সংশয় রইল না আল্লাহ এক।

আমার ব্যক্তিগত চিন্তা ও গবেষণা থেকে বুঝতে পারলাম ত্রিত্ববাদের ধারণা মানুষের তৈরি, যার উদ্ভব হয়েছে ৩২৫ খ্রিস্টাব্দের পর। আগে তা ছিল না। বি’ষয়টি আমার ক্যাথলিক পরিচয়কেই বোঝা করে তুলল।

এরপর মু’সলিম হতে এবং নতুন ধর্মবিশ্বাসের প্রকাশ্য ঘোষণা দিতে আমার ছয় বছর লেগেছিল। যখন আমি ইসলাম গ্রহণের আবেদন করলাম, ধর্মীয় পণ্ডিত জানতে চাইলেন, আমি কি পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে প্রস্তুত? তিনি বললেন, ইসলাম গ্রহণ করা সহজ। কিন্তু পরবর্তী জীবনে বহু চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হয়।

আমি প্রস্তুত ছিলাম। নিজেকে রক্ষা করার, নিজের আত্মাকে রক্ষা করার অধিকার আমার ছিল। অমূলক কোনো মতবাদ নিয়ে পড়ে থাকা আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না।

ইসলাম গ্রহণের পর আমি আমার পরিবার ও সম্পদ হারাই। আমি একা হয়ে যাই। পরিস্থিতি খুব ভালো ছিল না। তবে আল্লাহ আমার সঙ্গে ছিলেন। তিনি ছিলেন আমার আশ্রয়

একজন নতুন মু’সলিম হিসেবে আমি আমার করণীয় সম্পর্কে সচেতন ছিলাম। আমি পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করতাম, রমযানে রোযা রাখতাম এবং হিজাব পরতাম।

আগেও আমার জীবন ছিল স্রষ্টার জন্য উৎসর্গিত। এখনো আমার জীবন আল্লাহর জন্য নিবেদিত। আলহামদুলিল্লাহ! আমার জীবন শুধু আল্লাহর জন্য

আপনার বন্ধুদের সাথে এই পোস্ট টি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বশেষ সংবাদ

সাম্প্রতিক মন্তব্য

    © All rights reserved © 2018 worldinbangladesh.com