মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২০, ১২:৪৬ পূর্বাহ্ন

বড় ভাইকে হ’ত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দিল ঘা’তক রাজিব

বড় ভাইকে হ’ত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দিল ঘা’তক রাজিব

ঘা’তক রাজিব ঘোষ। রাজধানীর মুগদায় হাত খরচের ১০০ টাকা না পেয়ে বড় ভাই জীবন ঘোষকে ইট দিয়ে মাথা থেঁ’তলে নৃ’শংসভাবে হ’ত্যা করেছে মা’দকাসক্ত ছোট ভাই রাজিব ঘোষ।

গ্রে’ফতারের পর পুলিশ তাকে শনিবার ঢাকা মহানগর ম্যা’জিস্ট্রেট আ’দালতে হাজির করে। ম্যা’জিস্ট্রেট শহিদুল ইসলামের খাসকামরায় ফৌজদারি কার্যবিধির ধারায় হ’ত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে ভাইকে হ’ত্যার স্বীকারোক্তিমূলক জবানব’ন্দি দেয় ঘা’তক রাজিব।

রাজিব ঘোষ জানায়, মুগদা হাসপাতালের সামনে তার বাবার একটি মিষ্টির দোকান রয়েছে। জীবন ফুড ফ্যাক্টরি নামের ওই মিষ্টি দোকানে সেও কাজ করতো।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সে দোকানে কাজ করছিল। দাদা (বড় ভাই) জীবন ঘোষ ক্যাশে বসেছিল। সে তখন দাদার কাছে ১০০ টাকা চায়। দাদা টাকা দিতে চায়নি। দুজনের মধ্যে এ নিয়ে কথা কা’টাকাটি হয়।

এক পর্যায়ে রাগ করে দোকানের সামনে থেকে ইট নিয়ে দাদার (জীবন ঘোষ) মাথার পেছনের দিকে আ’ঘাত করে সে। এতে দাদা (জীবন) মাটিতে পড়ে যায় । এরপর আরও একটি আ’ঘাত করে সে।

মাথা থেকে র’ক্ত বের হচ্ছিল। তখন র’ক্ত থামানোর জন্য মাথায় গামছা চে’পে ধরে সে। তাতেও র’ক্ত থামেনি। পরে দাদা নড়াচড়া না করতে দেখে টানাহেঁচড়া করে সে।

এরপর ভয় পেয়ে যায় সে। গামছা দাদার গ’লার কাছে রেখে সে দোকান বন্ধ করে বাসায় চলে যায়। বাসায় গিয়ে ঘটনা কাউকে বলেনি। পরে পুলিশ বাসায় দিয়ে তাকে স’ন্দেহ করে ধরে নিয়ে যায়।

পুলিশের সবুজবাগ জোনের এসি মো. রাশেদ হাসান যুগান্তরকে বলেন, বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ৮টার দিকে ঝড়ের সময় মুগদা হাসপাতালের সামনে মিষ্টির দোকানের ভেতর জীবন ঘোষের হ’ত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।

এরপর তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে আমরা ধারণা করি ছোট ভাই রাজিব ঘোষ তার বড় ভাই জীবন ঘোষকে খু’ন করে থাকতে পারে। পরে তাকে আ’টক করে থানায় নিয়ে আসা হয়।

জি’জ্ঞাসাবাদে সে ভাই হ’ত্যার দায় স্বীকার করে। শনিবার সে আ’দালতের কাছেও ভাই হ’ত্যার দায় স্বীকার করে জবানব’ন্দি দেয়। পরে আ’দালতের নির্দেশে তাকে কা’রাগারে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে তার বাবা নারায়ন ঘোষ বাদি হয়ে মুগ্দা থানায় একটি মা’মলা দা’য়ের করেন। মা’মলার এজাহারে তিনি বলেন, জীবন ঘোষ এ দোকানটি চালাতো। আর রাজিব ঘোষ তাকে সহযোগিতা করতো।

বৃহস্পতিবার ইফতারি বিক্রি করে রাজিব ঘোষ বাসায় আসে। তার মা দরজা খুলে দিলে সে তাড়াহুড়ো করে বাথরুমে গিয়ে গোসল করে। জীবন ঘোষ কোথায় জিজ্ঞাস করলে সে জানায়, দোকান তালা দিয়ে চলে এসেছে।

জীবন ঘোষ বাসায় না আসায় রাত পৌনে ৮টায় তার মোবাইলে ফোন দেই। কিন্তু জীবনের মোবাইল বন্ধ দেখায়।

নারায়ন ঘোষ বলেন, আমি তখন ভেবেছি, বৃষ্টির মধ্যে সে কোথাও আ’টকা পড়েছে। মোবাইলে হয়তো চার্জ নেই। রাত ৯টায়ও সে বাসায় না ফেরায় আমি ডুপ্লিকেট চাবি বাসা থেকে নিয়ে রাজিবকে সঙ্গে নিয়ে দোকানে যাই।

রাজিব সার্টার খুলে লাইট দিয়ে চি’ৎকার করে বলে বাবা দাদা নাই। আমি তখন দেখলাম জীবন দোকানের মেঝেতে পড়ে আছে। চারপাশে র’ক্ত আর র’ক্ত। এরপর মুগদা থানায় খবর দেই। পুলিশ গিয়ে তার লা’শ উ’দ্ধার করে।

মুগ্দা থানার ওসি প্রলয় কুমার সাহা যুগান্তরকে বলেন, রাজিব ঘোষ মা’দকাসক্ত ছিল। একাধিকবার তাকে মা’দক নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে বলে জানতে পেরেছি।

সে প্রতিদিন নিজেদের দোকান থেকে হাত খরচের কথা বলে মা’দকের জন্য টাকা নিয়ে যেতো। এ নিয়ে দুই ভাই জীবন ও রাজিবের মধ্যে একাধিকবার ঝ’গড়া ও মনোমালিন্য হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতে ঝড়ের সময় রাজিব তার ভাই জীবনের কাছ থেকে টাকা নিতে গেলে বা’ধা দেন। এর পরেই সে তাকে খু’ন করে।

আপনার বন্ধুদের সাথে এই পোস্ট টি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক মন্তব্য

    © All rights reserved © 2018 worldinbangladesh.com